কেউ NID এর birthday ঠিক করার নিয়ম জানেন? করবো করবো আজ করবো কাল করবো করতে করতে আমার করাই হলোনা। অরিজিনালী August হওয়ার কথা থাকলেও, সেটা February হয়ে যায়, বাংলা ৪ আর ইংরেজি 8 এর কনফিউশন, অদলবদল। এখন আমার সব সার্টিফিকেট এ feb দেয়া কিন্তু হবে aug, জন্মসনদ ঠিক করছি কিন্তু NID ঠিক করতে পারতেছিনা। তারা স্কুলের সার্টিফিকেট চাচ্ছে। আরে ছাগলের দল আমার সার্টিফিকেটেও ভুল তাইতো আগে Birth আর তারপর NID ট্রাই করতেছি। এখন কেমনে কি করা যায় বুঝতেছিনা।
বাংলাদেশে জীবনের সবচেয়ে বড় ঝামেলাগুলোর একটি হলো জন্মসনদ, NID আর পাসপোর্ট তৈরি করা। একটা দেশের নাগরিক হতে গেলেই যে এত ভোগান্তি পোহাতে হয়, অন্য কোনো দেশেও এমন হয় কিনা জানি না। আবার এসব ডকুমেন্ট বানানোর পরও আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষকে পরে সংশোধন করতে হয়। কোথাও নাম ভুল থাকে, কোথাও বাবা-মায়ের নাম ভুল থাকে, আবার কোথাও জন্মতারিখ ভুল হয়ে যায়। ভুল বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে আপনি সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও অনেক সময় ভুল তথ্য চলে আসে।
@DYING-SOUL ভাই, আপনি যেহেতু বলছেন আপনার সব সার্টিফিকেটে জন্মতারিখ ফেব্রুয়ারি দেওয়া আছে কিন্তু আসলে হওয়া উচিত আগস্ট মাস, তাহলে জন্মসনদ কীভাবে ঠিক করেছেন সেটা আমি বুঝতে পারছি না। কারণ জন্মসনদ সংশোধনের জন্য সাধারণত স্কুলের সার্টিফিকেট যেমন PSC/JSC/SSC/HSC লাগে। যাই হোক, যেহেতু ঠিক করতে পেরেছেন, এজন্য আলহামদুলিল্লাহ বলুন।
এখন আপনাকে একটা পরামর্শ দিতে পারি। NID-এর জন্মতারিখ ভুল থাকলে সেটা ঠিক করার জন্য অবশ্যই স্কুল বা কলেজের সার্টিফিকেট লাগবে। তাই আমি বলবো, আগে স্কুলের সার্টিফিকেট সংশোধন করুন, তারপর NID সংশোধন করবেন। কারণ স্কুলের সার্টিফিকেটে যে জন্মতারিখ থাকবে, NID-তেও সাধারণত সেটাই অনুসরণ করা হয়।
তবে স্কুলের সার্টিফিকেট সংশোধন করতে গেলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।
আমার এক বন্ধু এভাবে করেছিল। আমি পুরো বিষয়টা ধাপে ধাপে তালিকা করে দিচ্ছি।
সংশোধন অনলাইন/অফলাইন দুভাবেই করা যায়। তবে দালাল বা কোন প্রকার থার্ড পার্টি ছাড়া ঝামেলামুক্ত ভাবে কাজ করার জন্য অনলাইন আমার সাজেশনে থাকবে। কারণ এখানে হাতে ফ্রম ফিলাপ করার কিছু নাই। হাতে লিখলে আপনার ভুল ওরা ধরবেই। এই জন্য অনলাইন করা সুবিধাজনক।
1) নোটারি_পাবলিক: নাম বা জন্মতারিখের ভুল সংশোধনের জন্য প্রথমে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি বা এফিডেভিট করাতে হবে।প্রার্থীর নিজের নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে তার বয়স যদি ১৮ বছরের বেশি হয়, তাহলে তিনি নিজেই এফিডেভিট করতে পারবেন।
2) পত্রিকায়_বিজ্ঞাপন: হলফনামা সম্পাদনের পর একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর সার্টিফিকেট নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, শাখা, পরীক্ষার সাল, পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম, রোল নম্বর, বোর্ডের নাম এবং জন্মতারিখ উল্লেখ করে যা সংশোধন করতে চান (প্রার্থীর নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম বা জন্মতারিখ) তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে।
এই ২ টি কাজ সম্পাদন করার পর আপনি যেই স্কুল বা কলেজে লেখাপড়া করেছেন সেটির সাহায্য লাগবে। (অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই)
এবার আপনি উপরে উল্লেখিত ২ টি কাগজ + আপনার বাবা-মা নাম সংশোধন হলে উনাদের সার্টিফিকেট বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড /আপনার নিজের হলে জন্ম সনদ নিয়ে সরাসরি আপনার প্রতিষ্ঠানে চলে যান। এই কাজটি আপনি বাসায় বসে করতে পারবেন না, কারণ এটি কলেজের EIIN ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে করা হয়। এর একটিই সুবিধা আপনাকে শিক্ষা বোর্ডে যেতে হচ্ছে না, নিজের স্কুল থেকেই কাজ হয়ে যাবে। টপিকে ফিরে আসি:
এই কাগজগুলো রেডি করে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানান। উনি আপনার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অপারেটরকে অনলাইন আবেদন করার জন্য নির্দেশনা দিবেন৷ তখন সে আপনার ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আবেদন করে দিবে এবং আপনার ফোনে ম্যাসেজ চলে আসবে সাথে সাথে। তারপর উনি আপনাকে সোনালি ব্যংকে আবেদন ফি জমা দেওয়ার জন্য একটা রশিদ দিবেন। ৫৫৮ টাকা জমা দিতে হবে (প্রতিটির জন্য)। টাকা জমা দেওয়ার পর রশিদ অবশ্যই যত্ন করে রাখবেন। আবেদন ফি জমা না দিলে আপনার আবেদন গৃহীত হবে না। আবেদন ফি জমা করার পর আপনার জন্য এডুকেশন বোর্ডের ওয়েবসাইটে আলাদা একটা প্রোফাইল ক্রিয়েট হবে।
লগ ইন লিংকসেখানে লগ ইন করে আপনি আপনার মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই করে সর্বশেষ অবস্থা ট্রেক করতে পারবেন। টাকা জমা দেওয়ার পর ঝিম ধরে ৩ মাস বসে থাকুন। আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ মাস বা এর বেশি সময় লাগবে। যখন কাজ শেষ হবে তখন আপনার ফোনে ম্যাসেজ চলে আসবে এবং আপনি আপনার প্রোফাইলে লগ ইন করবেন। সেখানে আপনার জন্য নতুন একটা অপশন আসবে "ডকুমেন্ট উত্তোলন"। সেই অপশনে গিয়ে আপনি ডকুমেন্টস উত্তোলনের আবেদন করবেন। এবার কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এখন আপনার কাছে সেই সাইটে লগ ইনের জন্য পাসওয়ার্ড আছে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে যেই ডকুমেন্ট উত্তোলন করতে চান সেটার জন্য ঘরে বসে আবেদন করুন৷ (যদি বাসায় কম্পিউটার না থাকে তবে যেকোনো কম্পিউটারের কাজ করে এমন দোকানে এই কাজ করতে পারবেন) আবেদন করার পর উত্তোলন ফি বাবদ ৫৫৮ টাকার সোনালি ব্যংকে পে করার জন্য একটা ডকুমেন্টস পেয়ে যাবেন। সেটা নিয়ে ব্যাংকে যান। আগের মতোই ফি জমা দিন। কাজ শেষ, এবার ১ সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। তারপর আপনার ফোনে ম্যাসেজ আসবে আপনার ডকুমেন্টস রেডি। তখন আপনি আবার আপনার প্রোফাইলে লগ ইন করে উত্তোলন করার চূড়ান্ত ডকুমেন্টস আছে সেটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন। এবার আপনাকে প্রথমবারের মতো শিক্ষা বোর্ডে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে ৪ নম্বার ভবনের ৫ তালায় আপনার অরিজিনাল সার্টিফিকেট জমা দিন। এর পরদিন বিকালে আবার সেই অফিসে যান, চূড়ান্ত ডকুমেন্টস+ ব্যাংকে যে ফি জমা দিয়েছিলেন সেটার মূল কপি জমা দিয়ে বুঝে নিন আপনার নতুন সংশোধিত সার্টিফিকেট।
আমার বন্ধু সম্পূর্ণ প্রসেসটা শেষ হতে ১৪৩ দিন সময় লেগেছে। তাই অনলাইনে কোন প্রকার তদবীর ছাড়া + অতিরিক্ত কোন টাকা প্রদান ছাড়া কাজটা করতে হলে আপনাকে একটু ধের্য ধরতেই হবে। আর মনে রাখবেন, আপনি বৈধ উপায়ে কাজ করলে যে তৃপ্তিটা পাবেন সেটা আর কিছুতে পাবেন না।
তবে অফলাইনে সংশোধন করতে চাইলে ২ নম্বরী পদ্ধতিতে মানে দালাল ধরে করলে সময় ও শ্রম কম লাগবে তবে খরচ একটু বেশি লাগবে। তবে এটি আমি আপনাকে সাজেস্ট করব না। কারণ ধরা পরলে ব্যাপারটা ভালো হবে না। দেশে কিছুটা ধীরে হলেও চেন্জ আসছে। তাই আগেই সাবধান।
আনুমানিক খরচ:
পত্রিকায় বিজ্ঞাপন- ৩০০ টাকা
নোটারি পাবলিক -৫০০ টাকা (কম বেশি লাগতে পারে)
আবেদেন ফি ৫৫৮×2= ১১১৬ টাকা (এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি)
সার্টিফিকেট উত্তলন ফি ৫৫৮×২= ১১১৬ টাকা (২টি)
ট্রান্সপোর্ট বাবদ আরো কিছুটা খরচ হবে। তবে ২ টি সার্টিফিকেটের জন্য মোটামোটি ৩০০০-৩৫০০ টাকা খরচ হবে।